শরীয়তপুর শহরে চরম জলাবদ্ধতামারান্তক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পৌরবাসী » Sheersha Khobor

শরীয়তপুর শহরে চরম জলাবদ্ধতামারান্তক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পৌরবাসী

রবিবার, ১৩ জুন ২০২১
শীর্ষখবর

  •  
  •  
  •  

শরীয়তপুর থেকে মোঃ আবুল হোসেন সরদার ॥ শরীয়তপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণির হলেও সে অনুযায়ী কোন নাগরিক সুবিধা পাচেছনা পৌরবাসী। খানাখন্দে ভরা পৌর এলাকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট। সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে তলিয়ে যায় শহরের গুরুত্বপূর্ন সড়কসহ পাকা সড়ক, বসতবাড়ির আঙিনা এমনকি মানুষের থাকার ঘরটিও। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পৌর শহরের নিুচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ময়লাযুক্ত পানি কারনে অতিষ্ঠ হয়েছে পৌরবাসী। ফলে জনজীবন থমকে গেছে। শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য খুবই কষ্ট হচেছ। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে অপরিকল্পতি ভাবে বাড়ীঘর করার কারনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য পৌরবাসীই দায়ী। তবে শীঘ্রই ড্রেননির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
শরীয়তপুর পৌরসভা সচিব মোঃ এনামুল হক ও পৌরসভা সুত্রে জানাযায়, ১৯৮৫ সালে ২৪ দশমিক ৭৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শরীয়তপুর পৌরসভা গঠন করা হয়। আয়তনের দিক থেকে এ পৌরসভাটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পৌরসভা বলে খ্যাত। তবে এ পৌরসভায় প্রতিবছর পৌর কর বাড়লে ও বাড়েনি কোন নাগরিক সুবিধা। ১৯৯৮ সালে পৌরসভাটি কে দ্বিতীয় শ্রেণি ও ২০০৭ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উত্তীর্ণ করা হয়। এখানে বর্তমানে প্রায় লক্ষাধিক লোকের বসবাস রয়েছে।বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর এ পৌর শহরে রয়েছে মাত্র ৩ কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এর বাইরে কিছু ড্রেনেজ আছে যার ৮০ শতাংশই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো ও ভরাট অবস্থায় রয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নিচে তলিয়ে যায় পৌর শহরের অধিকাংশ এলাকা। প্রভাবশালীরা প্রাচীন খাল গুলো ভরাট করে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি শহরের পুরনো শতাধিক পুকুর, জলাশয় ব্যক্তিগত উদ্যোগে বালু দিয়ে ভরাট করায় পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। গত কয়েকদিনের ঝড়-বৃষ্টির কারণে শরীয়তপুর শহরের ১নং ওয়াডের্র শান্তিনগর, নিরালা আবাসিক এলাকা, কোতোয়াল বাড়ী রোড, কলেজ রোড, পুলি শলাইন এলাকা, কাশাভোগ, নিলকান্দী, স্বর্ণঘোষ, বেপারী পাড়া, চরপালং এলাকাসহ পৌরসভার অধিকাংশ নিচু এলাকা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।বিপযর্স্ত হয়ে পড়েছে মানুষের জনজীবন। অনেকের বাড়ী ঘরে পানি উঠার কারনে সাকোঁদিয়ে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যাতায়াত করছে।

অপর্যাপ্ত ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিস্কার ও সংস্কার না করায় বেশি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে থাকে। অন্যদিকে শরীয়তপুর পৌরসভার যে ড্রেনেজ আছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। গত ২ বছর আগে যে ড্রেন নিমার্ণ করছে তা, খুবই নিন্মমানের কাজ হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে যাচেছ বলে অভিযোগ রয়েছে।
শরীয়তপুর পৌরসভার শান্তিনগর এলাকার শারমিন বেগম বলেন, গত ৪ দিনের বৃষ্টিতে আমাদের ঘরে পানি উঠে গেছে। এখন আমরা সাকোঁ দিয়ে এক ঘর থেকে আরেক ঘরে যাতায়াত করি। এ বিষয়ে মেয়র ও স্থনীয় কাউন্সিলরদের কাছে বারবার গিয়েও আমরা কোন সুফল পাচিছনা।
চরপালং এর বাসিন্দা সেলিমা বেগম বলেন, পচা দুর্গন্ধ পানির কারনে ঘরে শান্তিতে বসবাস করতে পারছিনা। সাপ কেচো তো আছেই পাশাপাশি মারাত্নক রোগ ব্যাধীর আশংকা করছি।
নিরালা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আবদুল হক মিয়া. আতাউর রহমান বলেন, আমরা পৌরসভার প্রান কেন্দ্রে বসবাস করলেও কোন রকম নাগরিক সুবিধা পাচিছনা। প্রতিবছর আমরা অতিরিক্ত পৌর কর দিচিছ। অথচ সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র এডভোকেট পারভেজ রহমান জন বলেন, অপরিকল্পিতবাড়ী ঘর তোলার কারনে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পুরাতন ড্রেনগুলো খুব শীঘ্রই সংস্কার করা হবে। সামনে কিছু প্রজেক্ট আছে,তাতে কিছু ড্রেন ধরা আছে। সে গুলো হলেই জলাবদ্ধতা কমে আসবে।

শীর্ষ খবর/আ/আ

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Page

Sheersha Khobor UK

বিজ্ঞাপন

একটি ভোরের প্রতীক্ষায়

Hameem Travel

add-1