সারা দেশে ঈদ উদযাপন, চোখের জলে করোনামুক্তি ও বিশ্ববাসীর কল্যাণ প্রার্থনা » Sheersha Khobor

সারা দেশে ঈদ উদযাপন, চোখের জলে করোনামুক্তি ও বিশ্ববাসীর কল্যাণ প্রার্থনা

বুধবার, ২১ জুলাই ২০২১
শীর্ষখবর

  •  
  •  
  •  

যথাযথ মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আমেজে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মহামারি করোনা ভাইরাসের বিরূপ বাস্তবতায় দেশের প্রায় সকল ঈদ জামাতে কাতারে কাতারে মুসল্লিরা জামাত শেষে মোনাজাতে অংশ নিয়ে বিশ্ববাসীর রোগমুক্তির কামনা করেন। একইসঙ্গে মুসল্লিরা চোখের জল ফেলে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতদের জন্য দোয়া এবং দেশ, জাতি ও বিশ্ববাসীর কল্যাণ কামনা করা হয়।

বুধবার (২১ জুলাই) সকাল থেকেই ঢাকাসহ দেশের সকল বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে একযোগে ঈদের জামাত শুরু হয়। ঈদের নামাজ শেষে পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি লাভের আশায় এখন চলছে পশু কোরবানি।

এদিন সকাল সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। মুকাব্বির ছিলেন বায়তুল মোকাররমের মুয়াজ্জিন আতাউর রহমান।

ঈদের জামাত শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, ‘হে আল্লাহ আপনি আমাদের সব মুসলিম উম্মাহকে মাফ করে দিন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সঠিকভাবে দেশ পরিচালনার জন্য সুস্বাস্থ্য দান করুন। বাংলাদেশসহ মুসলিম উম্মাহকে হেফাজত করুন। বিশ্বমানবতাকে রক্ষা করুন। কঠিন এ করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে আমাদের সবাইকে রক্ষা করুন মাওলা। আপনার খাস রহমত নাজিল করুন।’

মোনাজাতে করোনা মহামারি থেকে মুক্ত করে বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বে স্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চান ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। এ সময় ‘আমিন আমিন’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠে জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ।

এর পর বায়তুল মোকাররমে একে একে আরও ৪টি জামাতসহ মোট ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় মসজিদ ছাড়াও ঢাকার দুটি সিটির বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য মসজিদ ও প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই স্থানীয়ভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এবছর করোনা সংক্রমণ এড়াতে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহায়ও ঈদের জামাত স্থগিত রাখা হয়েছে।

এদিন সকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার শাহী মসজিদ, বড় কাটরা মাদ্রাসা মসজিদ, লালবাগ শাহী মসজিদ, তারা মসজিদ, রায়সাহেব বাজার জামে মসজিদ, নিমতলী ছাতা মসজিদ, আগামছি লেইন জামে মসজিদ ও বায়তুল মামুর জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত হবে। নবাবগঞ্জ বড় মসজিদ, ছাপড়া মসজিদ, মিরপুর দারুস সালাম লালকুঠি বড় মসজিদ, ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদ, ধানমণ্ডির বায়তুল আমান মসজিদ, ঈদগাহ মাঠ মসজিদ, সোবহানবাগ জামে মসজিদ এবং গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

করোনা মহামারির কারণে এ বছরও উপমহাদেশের প্রাচীন ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে এবারও ঈদের জামাত হয়নি। এ নিয়ে টানা ৪টি ঈদে শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত স্থগিত রাখা হলো।

ঢাকার বাইরে খুলনায় টাউন জামে মসজিদে ঈদের প্রধান ও প্রথম জামাত হয় সকাল ৭টায়। সকাল ৮টা ও ৯টায় এ মসজিদে আরও দুটি জামাত হয়। এছাড়া নগরীর বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে এবার সকাল ৭টা ও ৮টায় এবং শহরের কোর্ট জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত হয়। তবে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে খুলনায় এবার উন্মুক্ত স্থানে বা মাঠে কোনও ঈদের জামাত হতে দেখা যায়নি।

ঈদের দিন সকাল ৮টায় রাজশাহীতে মাদরাসা ময়দান সংলগ্ন হজরত শাহ্ মখদুম (র.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া শহরের সাহেববাজার বড় মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং সাড়ে ৮টায় দুটি জামাত হয়। সকাল ৮টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যারয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ও সকাল ৭টায় রাজশাহী প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদে ঈদের জামাত হয়।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ঈদের প্রথম জামাত সকাল ৮টায় দামপাড়ার জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশ-জাতির মঙ্গল কামনায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়। করোনার কারণে নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকলেও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তবে করোনা মহামারিতে এবারও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়ামে ঈদের জামাত হয়নি।

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ ময়দানে এবারও হয়নি ঈদের জামাত। হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার মসজিদে ঈদের জামাত হয় সকাল ৮টায়। এছাড়া বন্দরবাজার কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে প্রতিবারের মতো এবারও তিনটি ঈদের জামাত হয়। বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের জামাত হয় সকাল ৮টায়। আম্বরখানা জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টা ও সাড়ে ৮টায় দুটি ঈদ জামাত হয়।

ময়মনসিংহে আঞ্জুমান ঈদগাহ মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের প্রধান ও প্রথম জামাত হয়। এছাড়া সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট ও সাড়ে ৯টায় আরও দুটি জামাত হয় এ মসজিদে। নগরীর হরের আকুয়া মার্কাজ মসজিদে সকাল ৭টায়, বড় মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টা ও সাড়ে ৯টায় এবং গাঙ্গিনারপাড় জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ও জয়নুল আবেদিন পার্ক মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত হয়।

গোপালগঞ্জে সকাল সাড়ে ৭টায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদগাহের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় কোর্ট মসজিদে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিশোরগঞ্জ ও দিনাজপুরেও সকাল ৮টায় ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে উপমহাদেশের প্রাচীন ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে এবারও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি।

এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখে কুষ্টিয়ার ১৫০ মসজিদে ঈদুল আজহার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭ টায় কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় বড় মসজিদে ঈদুল আজহার প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে একাধিক জামাতের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন। এছাড়াও ঈদের দিন সকালে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় সকাল থেকে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদের নামাজ আদায় শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পরস্পর কুশল বিনিময় করেন। ঈদ জামাত শেষে সারা দেশে এখন ত্যাগের মহিমায় পশু কোরবানি চলছে।

শীর্ষ খবর/আ/আ

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Page

Sheersha Khobor UK

বিজ্ঞাপন

একটি ভোরের প্রতীক্ষায়

Hameem Travel

add-1